কিভাবে SEO আর্টিকেল লিখতে হয়

বর্তমান সময়ে অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয়  একটি মাধ্যম হলো আর্টিকেল রাইটিং। শুধু  লিখতে জানলেই ভালো আর্টিকেল লিখা যাই না। বরং সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করে, তথ্যগুলো সাজিয়ে ভালোভাবে উপস্থাপনা করাই একটি মানসম্মত আর্টিকেলর মূূল চবিকাঠি। 

শুধুমাত্র একটি সঠিক গাইডলাইন মেনে সহজেই মানসম্মত আর্টিকেল লিখা সম্ভব। তাই কিভাবে একটি মানসম্মত আর্টিকেল লিখবেন এটা জানার প্রয়োজন, মানসম্মত একটি আর্টিকেল লিখার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। 

পেজ সূচিপত্রঃ কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়

আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম কিভাবে লিখতে হয় 

একটি আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম 
একজন পাঠকে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আকর্ষণ করে বা পড়ার আগ্রহ তৈরি করে। সুন্দর একটি টাইটেল অথবা শিরোনাম পাঠকে আর্টিকেলটি পড়তে উৎসাহিত করে। সুতরাং টাইটেল অথবা শিরোনাম লেখার সময় এমন ভাবে লিখবেন যেন পাঠক পড়ার আগ্রহ করে। 

আসুন টাইটেল অথবা শিরোনাম লেখার মূল কিছু কৌশল জানা যাক। শুরুতেই আর্টিকেল বা পোস্ট এর শিরোনামটি ৫ থেকে ৮ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে এবং এই ৫ থেকে ৮ শব্দের টাইটেল ৬০ ক্যারেক্টার মধ্যে হতে হবে। শিরোনাম বা টাইটেলের শুরুতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে যেন মানুষ আকর্ষিত হয়, যেন পাঠকের মনে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আগ্রহ হয়। 

আর্টিকেল বা পোস্ট টাইটেল লোভনীয় করে লিখতে হবে। পাঠক যেন দেখার সাথে সাথে থেমে যায় এবং আপনার পোষ্টের মধ্যে ক্লিক করতে বাধ্য হয়।নিম্নে দেওয়া এমন শব্দ ব্যবহার করতে পারেন যেমন: কার্যকরী, গোপনীয়তা, ১০ টি টিপস ইত্যাদি। পাঠকদের মনে যেন কৌতূহল তৈরি করে তেমন শব্দ ব্যাবহার করবেন। এবং পোস্ট টাইটেলের মধ্যে (? ! - ।) এগুলো চিহ্ন ছাড়া অন্য কোন জাতি চিহ্ন ব্যাবহার যাবে না।

আর্টিকেলের শুরুতে ভূমিকা বাটুন কেন ব্যাবহার করবেন 

একটি আর্টিকেলের শুরুতেই যদি পাঠক প্রয়োজনীয় আরো রিলেটেড আর্টিকেল বা পোস্ট পেয়ে যায় তাহলে তার আগ্রহ আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যেই ধরে রাখা সম্ভব হবে, এজন্য পাঠকের সুবিধার জন্য  পোস্ট বা আর্টিকেলের শুরুতে একটি ভূমিকা বাটুন ব্যবহার করবেন। শুধু ভূমিকা বাটুন ব্যাবহার করলেই হবে না। ভূমিকা বাটনের দিয়ে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে, পাঠক যেন সেই পোস্ট বা আর্টিকেলের মধ্যে ক্লিক করতে বাধ্য হয়। 

আর্টিকেল বা পোস্ট এর শুরুতে শুধুমাত্র একটা ভূমিকা বাটন বানাতে হবে, এবং এই ভূমিকা বাটুনের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শব্দ ব্যাবহার করবেন এর থেকে বেশি শব্দ ব্যাবহার করবেন না। ভূমিকা বাটুন এর মধ্যে অন্য রিলেটেড পোস্ট এর ফোকাস কিওয়ার্ড ভূমিকা বাটুনে ব্যাবহার করবেন যেন পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভূমিকা বাটুন কালার হবে আপনার ওয়েবসাইটের থিমের মেইন কালারটি ভূমিকা বাটুনে ব্যবহার করবেন। 

আর্টিকেলের মেটা ডেসক্রিপশন কি? এবং কতটুকু লিখবেন

মেটা ডেসক্রিপশন হলো একটি আর্টিকেলের বা পোস্টের সংক্ষিপ্ত পরিচিয়। মেটা ডেসক্রিপশন একটি পোস্টের মধ্যে কি কি বিষয় বলা হয়েছে বা আলোচনা করা হয়েছে এবং আর্টিকেল বা পোস্টটি কেন পড়বেন তা পাঠকদের আগে থেকেই বুঝতে সাহায্য করে। সুন্দর ভাবে মেটা ডেসক্রিপশন লেখা থাকলে পাঠক সেই পোস্ট বা আর্টিকেল পুরো পড়ার জন্য আগ্রহ করে।


মেটা ডেসক্রিপশন সাধারণত ছোট হয়। একটি পোস্ট বা আর্টিকেলের মেটা ডেসক্রিপশন মোট চার লাইন লিখবেন। এবং এই চার লাইন মেটা ডেসক্রিপশনের মধ্যে একটি ফিচার ইমেজ ব্যবহার করবেন। ভূমিকা বাটুন এর নিচে এবং ফিচার ইমেজ এর উপরে দুই লাইন লিখবেন। এবং ফিচার ইমেজের নিচে পেজ সূচিপত্র এর ওপরে দুই লাইন লিখবেন। 

আর্টিকেলের পেজ সূচিপত্র সাজানোর নিয়মঃ

একটি আর্টিকেল বা পোস্টের জন্য পেজ সূচিপত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একজন পাঠক পেজ সূচিপত্রের মাধ্যমে খুব সহজেই বুঝতে পারে আর্টিকেল বা পোস্ট এর ভিতরে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং কোন অংশে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একটি আর্টিকেল যতই সুন্দর ভাবেই লেখা হোক না কেন, যদি সেটা অগোছালো থাকে তাহলে পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আর একটি আর্টিকেল বা পোস্টকে গুছিয়ে রাখার জন্য পেজ সূচিপত্র  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

একটি পেজ সূচিপত্র সুন্দর এবং সাজিয়ে রাখার জন্য আমাদের যে বিষয় গুলো জানার প্রয়োজন সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
  • পেজ সূচিপত্র ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে লিখতে হবে।
  • ফোকাস কিওয়ার্ড এর নিচে ১২ লাইন হেডিং ব্যাবহার করবেন(অর্থাৎ একটি আর্টিকেল পোস্ট এর পেজ সূচিপত্রে ১২ টা বিষয় ব্যাবহার করবেন।
  • প্রথম হেডিং ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে লিখবেন।

আর্টিকেলের হেডিং সাজানোর নিয়মঃ

একটি আর্টিকেল বা পোস্টে মধ্যে শুধু তথ্যবহুল লেখা যথেষ্ট না। আচ্ছা আপনি এখন চিন্তা করে দেখে আপনি যখন কোন আর্টিকেল বা পোস্ট পড়া শুরু করেন তখন কিভাবে বুঝতে পারেন আপনি যে অংশটুকু পড়তেছেন সেই অংশে কোন বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, তখন অবশ্যই হেডিং দেখে বুঝতে পারেন, তাহলে এবার ভাবেন একটি আর্টিকেল বা পোস্টের জন্য হেডিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি আর্টিকেল হলো একটি গল্প এবং হেডিং হলো সেই গল্পের মূল বা খুঁটি। 

একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর হেডিং সাজানোর সময় আমাদের কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে সাজাতে হবে চলুন সে বিষয়ে আলোচনা করি। প্রথমেই বলি একটা হেডিং কত শব্দের মধ্যে লেখা উচিৎ, সবসময় একটা হেডিং ৫ থেকে ৮টি শব্দের মধ্যে লিখার চেষ্টা করবেন। এরপর প্রতিটি হেডিং এর নিয়ে সর্বনিম্ন দুইটি প্যারা লিখতেই হবে। দুইটি প্যারার কম লিখা যাবে না।এবং প্রতিটি হেডিং এর নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্যারা লিখা যাবে। কখনো পাঁচটি প্যারার বেশি লিখবেন না। 

আর্টিকেলের প্রতিটি প্যারা কিভাবে লিখবেন এবং কত লাইন লিখবেন।

একটি আর্টিকেল বা পোস্ট সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপনা করার জন্য প্যারাগ্রাফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেকটি প্যারাগ্রাফ হলো ছোট ছোট গল্পের মতো।  যদি প্যারাগ্রাফগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে না লেখা হয় তাহলে পাঠকরা বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে। সেজন্য প্রতিটি প্যারাগ্রাফ সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে। যেন পাঠকরা কোন বিভ্রান্ত না হয়। 


একটি আর্টিকেল বা পোস্ট এর প্যারাগ্রাফ সুন্দর ভাবে সাজিয়ে লেখার জন্য যে যে বিষয়গুলি জানতে হবে নিম্নে দেয়া হলো :
  • আর্টিকেলের প্রত্যেকটি প্যারাগ্রাফ সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাইন লিখবেন। সাড়ে তিন লাইনের কমে লিখা যাবে না।
  • প্রতিটি প্যারাগ্রাফ এর নিচে সর্বোচ্চ পাঁচ লাইন লিখবেন।
  • প্রতিটি যত পারা যাই সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

কিভাবে পোষ্ট ফর্মেটিং করবেন 

বর্তমান সময়ে তথ্য শেয়ার করা খুব সহজ হলেও,পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। পোস্ট ফরমেটিং মানেই শুধু ফন্ট বা রঙ ব্যবহার করা না। পোস্ট ফরমেটিং করে আপনি শুধুমাত্র আপনার পোস্ট আর্টিকেল সুন্দর  ভাবে তৈরি করছেন না, বরং  পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পারবেন। পোস্ট ফর্মেটিং এমন একটা হাতিয়ার যা আপনার পোস্ট বা আর্টকেলটিকে পাঠকদের আকর্ষণীয় করবে।

আর্টিকেল বা পোস্ট পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য নিচে পোস্ট ফর্মেটিং  করার সঠিক গাইডলাইন তুলে ধরা হলো :
  • একটি পোষ্টের মধ্যে অগোছালো ফন্ট অযথা বোল্ড অযথা কালার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • পোষ্টের সবগুলো লেখা সবসময় জাস্টিফাই (justify) ফরমেট করে রাখবেন। 
  • বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পোষ্টের মধ্যে ইটালিক ডিজাইন ব্যবহার করবেন না। 
  • প্রতিটি পোস্ট বা আর্টিকেলের মধ্যে আরো পড়ুন সেকশন তিনটা করে রাখবেন। 

আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজাতে হয়

অনেক আর্টিকেল রাইটার আছে যারা শুরুর কথাগুলো সুন্দরভাবে সাজছে  লিখতে পারলেও আর্টিকেল লেখার শেষে এসে দ্বিধায় পড়ে যায়, আর্টিকেলের শেষ কথা সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখতে পারেনা। একটি আর্টিকেলের শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ কথাটিও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন আর্টিকেল রাইটার শেষ কথার মধ্যে এসে তার আর্টিকেলের পুরো বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে। আর্টিকেলের শেষ কথা কিভাবে সাজিয়ে লিখতে হয় প্রতিটি লেখক এর জানা জরুরী।

আর্টিকেলের শেষ কথা সাজানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিম্নে দেওয়া হলো :
  • শেষ কথা বসাতে হবে ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে। 
  • সর্বনিম্ন দুইটা প্যারা দিয়ে শেষ কথা লিখবেন। 
  • দুইটা প্যারার মধ্যে প্রথম প্যারাই পুরো পুরো আর্টিকেল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে লিখবেন। এবং দ্বিতীয় প্যারায় নিজের মতামত দিবেন।

আর্টিকেল কখন লিখবেন এবং পাবলিশ করবেন

একটি পোস্ট আর্টিকেল লেখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত। কারণ এসময়ে আপনার মন-মাইন্ড সবকিছু ফ্রেশ থাকে। আপনি এ সময়টাতে যতটুকু কাজ করবেন বা আর্টিকেল  লিখবেন  সারাদিনও আপনি এতোটুকু কাজ করতে পারবেন না। কারণ এই সময়টাতে সবকিছু  চুপচাপ থাকে কোলাহলমুক্ত থাকে নিরিবিলি কাজ করা যায়। কিন্তু আপনি যদি দিনে আর্টিকেল লিখতে বসেন তাহলে চুপচাপ কলার মুক্ত  নিরিবিলি  পরিবেশটা পাবেন না। 

এজন্য চেষ্টা করবেন ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিট এই সময়টাতে লেখার জন্য। এবং আপনি যখনই আর্টিকেল লিখা শুরু করবেন তখন নিরিবিলি কোন জায়গায় বসে কাজ করবেন। এবং প্রতিটি পোস্ট সর্বনিম্ন ১৫০০ শব্দের লিখবেন। পোস্ট পাবলিক করার সময় নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
  • সকাল ৯:০০ টা থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত। 
  • দুপুর ৩:০০ টা থেকে ৪:০০ টা পর্যন্ত। 
  • রাত ৯:০০ টা থেকে ১০:০০ টা পর্যন্ত। 

লেখকের মন্তব্য

সঠিক গাইড লাইন, পরিকল্পনা, চেষ্টা ও প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিসের মাধ্যমে একজন মানসম্মত সফল আর্টিকেল রাইটার হওয়া সম্ভব । বর্তমান সময়ে একজন মানসম্মত আর্টিকেল রাইটার পাওয়া অনেক কঠিন বিষয়। শুরুতে ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু ভয় না পেয়ে প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস বা লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন, আস্তে আস্তে  একদিন আপনি নিজেই একজন মানসম্মত দক্ষ আর্টিকেল রাইটার হিসাবে গড়ে উছেন। সেজন্য অলসতা করে ঘরে বসে না থেকে সঠিক গাইডলাইন মেনে চেষ্টা করতে থাকুন। আপনিও একদিন সফল আর্টিকেল রাইটার হয়ে উঠবেন, ইনশাআল্লাহ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ডিজিটাল ক্লিক আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Talha
Md. Abu Talha
আমি ডিজিটাল ক্লিক আইটি ব্লগের এডমিন এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট। আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।